ফিতরার পরিমাণ কত – ইসলামী ফাউন্ডেশন ফিতরা ২০২৩

অনেকে জানে না ফিতরার পরিমাণ কত। তাই আপনিও যদি ফিতরার সম্পর্কে না জেনে থাকেন। কিংবা ফিতরার পরিমাণ সম্পর্কে না জেনে থাকেন। তাহলে এক্ষুনি আমাদের এই নিবন্ধন থেকে জেনে নিতে পারেন।

আপনাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যেই আমরা এই নিবন্ধনে প্রকাশ করেছি ফিতরার সম্পর্কিত নানান তথ্য। যা থেকে আপনারা স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে পারবেন ফিতরার সম্পর্কে এবং ফিতরের পরিমাণ সম্পর্কে। তাই আর সময় নষ্ট না করে এক্ষুনি আমাদের এই সম্পূর্ণ নিবন্ধনটি পড়ুন। এবং জেনে নিন ফিতরার সম্পর্কিত আপনার অজানা কথাগুলো।

ফিতরা কি?

প্রতিটি মুসলমান ব্যক্তির জন্য ফিতরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফিতারা হলো একটি সাদকা যা সাধারণত প্রত্যেককেই ঈদের আগে গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করতে হয়। তবে এর রয়েছে বেশ কিছু নিয়ম নীতি যা সাধারণত ধর্মীয় দিক থেকেই নির্দেশনা রয়েছে এই ফিতরার।

একটি মুসলমান মোমিন ব্যক্তির কাছে যদি সাড়ে ৭ ভরি সোনা কিংবা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা বা সমমূল্যের ব্যবসাপণ্য থাকে। তাহলে সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই ফিতরা দিতে হবে। এবং নিজেদের পরিবারদের সকলের থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব।

এবং আদায় করা সমস্ত ফিতরা বিলিয়ে দিতে হবে গরিব লোকেদের মাঝে। রমজান মাসে এই ফিতরা আদায় করা হয় আমরা সকলেই জানি। তবে এর উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আমাদের সকলকে জেনে রাখতে হবে।

আপনারা যদি একটু খেয়াল করে থাকেন সেক্ষেত্রে দেখতে পাবেন আপনার আশেপাশে অনেক গরীব দুঃখী মানুষ বসবাস করে তাদের মধ্যে অনেকে হয়তো আছে যারা ঈদের মধ্যে বাকিদের মতন খাবার দাবার কিংবা পোশাকা আসাক কিনতে পারেনা।

তাই যে সমস্ত ব্যক্তিরা গরীব দুঃখী তাদেরকে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে দিতেই বিশেষভাবে এই ফিতরা আদায় করা হয়।যা মূলত মহান রাব্বুল আলামিনের আদেশ অনুযায়ী এই ফিতরা আদায় প্রচলন হয়ে আসছে।

ফিতরা আদায়ের উপকারিতা

আপনি যদি সৎপথে ফিতরা দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনি বিভিন্নভাবে উপকারিত হবেন। যা আপনার জন্য খুবই মূল্যবান। আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা প্রত্যেকেই রোজা রাখি। তবে রোজা রাখার সময় কোন রকম খারাপ কাজ কিংবা অসৎ কোন কাজ করা যায় না। কেননা অসৎ পথে চলা বা খারাপ কাজ করা ব্যক্তিদের রোজা কখনো কবুল হয় না।

তবে মনের অজান্তেও যদি কখনো কোনোভাবে রোজা থাকা অবস্থায় কোন খারাপ কাজ কিংবা ভুলত্রুটি হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি এই ভুল টুকু পরিপূর্ণ করে নিতে পারবেন এই ফিতরার মাধ্যমে। আপনি যদি ফিতরা দিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে সেই ভুলগুলো আপনার মাফ করে দেয়া হবে এবং আপনি সেই পরিমাণ নেকি অর্জন করতে পারবেন। তাই আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নিন ফিতরার পরিমাণ কতটুকু।

ফিতরার পরিমাণ:

আপনারা যারা ভিতরের পরিমাণ কত তা জানেন না তারা এখন খুব সহজেই জেনে নিতে পারবেন কেননা ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে ফিতরার পরিমাণ কতটুকু তার সম্পর্কে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাইতুল মোকাররমের সভাপতি একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে মূলত ফিতরা সম্পর্কিত নানান আলোক আলোচনা করা হয়ে থাকে।

তাই সেই ইসলামী ফাউন্ডেশন এর মতে এ বছরে ফিতরার পরিমাণ সর্বোচ্চ ২৬৪০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ১১৫টাকা।

তো আপনারা যারা ফিতরা পরিমাণ সম্পর্কে জানতে না তারা হয়তো এখন জেনে নিতে পেরেছেন সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত ভেতরে দেয়া যাবে। তাই আপনি এই নির্ধারিত পরিমানের ভেতরে আপনার সাধ্য মতন কিন্তু আপনার ইচ্ছামতন ফিতরা দিতে পারবেন। তবে অবশ্যই সর্বনিম্ন ১১৫ টাকার উপরে ফিতরা দেয়া জরুরী।

কেননা ইসলামিক ফাউন্ডেশন নানান রকম চিন্তাভাবনা এবং ইসলামী নানান রকম শরীয়তের মতেই এই পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। তাই অবশ্যই সকলকেই ১১৫ টাকা সর্বনিম্ন ফিতরা দিতে হবে। এবং সকলকে চেষ্টা করতে হবে সৎ পথে কামনা টাকা ফিতরা দেয়ার।

কেননা অসৎ পথে কিংবা কোন খারাপ কাজে উপার্যন করা টাকা কখনোই ফিত্রা হিসেবে গণ্য করা হবে না।তাই অবশ্যই চেষ্টা করবেন সৎপথে থাকার এবং সৎ পথে উপার্জন করার। এবং সঠিক নিয়ম মেনে সঠিক ভাবে ফিতরা আদায় করার।