কোরবানির নাম দেওয়ার নিয়ম – মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম

আগামী 29 শে জুন মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সারা বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মুসলমান ধর্মপ্রাণ মানুষেরা কুরবানীর মাধ্যমে এই ঈদ উদযাপন করতে চলেছেন। একজন মুসলমান হিসেবে আপনি যখন পশু কুরবানী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঠিক তখনই আপনাকে কোরবানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম জানতে হবে এবং কোরবানির দেওয়ার যে সকল নিয়ম রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পশু কোরবানি দেওয়ার সময় কোন নাম উল্লেখ করা।

সাধারণভাবে আমরা কোরবানি দিয়ে থাকি মহান আল্লাহতালা কে উৎসর্গ করে এবং এই কুরবানীর তাৎপর্য ও গুরুত্ব আমাদের জীবনে প্রচুর। আপনারা এই মুহূর্তে কোরবানির নাম দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছেন যার কারণে আপনাদের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআন মাজীদ থেকে নাম দেওয়ার ব্যাপারে যে সকল তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং এর পাশাপাশি আমরা বেশ কিছু হাদিস উল্লেখ করেছি যেটার ভিত্তিতে আপনি বুঝতে পারবেন যে কুরবানীর নাম দেওয়ার সংক্রান্ত সকল তথ্য।

কোরবানির নাম দেওয়ার নিয়ম

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু উৎসর্গ করে দেওয়াকে আমরা সাধারণভাবে কুরবানী বলে থাকি এবং এই কুরবানী ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। আপনার কুরবানী দেওয়ার সামর্থ্য থাকলে আপনি অবশ্যই কুরবানী আপনার ওপর ওয়াজিব হয়েছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানকে কুরবানী দিতে উৎসাহিত করতেন। ইসলামের শরীয়ত অনুসারে কুরবানী হলো জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে 12 তারিখ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পশু জবাই করা।

পশু জবাইয়ের সময় কোরবানি দাতাদের নাম উল্লেখ করা সুন্নত নয় রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কোরবানির পশু জবাই করার সময় কার পক্ষ থেকে কুরবানী হচ্ছে তার নাম মুখে উল্লেখ করেনি বলে এরম বেশ কয়েকটি হাদিস পাওয়া গিয়েছে। কেননা কুরবানী পশু জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার বলেছেন কুরবানীর শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ত্যাগ ও নৈকট্য লাভ। এদিকে পশু জবাই এর আগে অনেকে অংশীদারী নাম বলতে দেখা যায় কার পক্ষ থেকে প্রচুর কুরবানী করা হচ্ছে সেটি তো পশু কেনার সময় নির্ধারণ হয়ে যায় সুতরাং পশুতে যার যার মালিকানা আছে তারা যাদের নামে কুরবানী আদায় নিয়ত করবেন তাদের নামে কুরবানী করতে হবে।

কুরবানীর ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন

কুরবানীর আগে নিশ্চিত হওয়ার জন্য নাম গুলো পাঠ করা যেতে পারে আগামী ২৯ শে জুন পবিত্র ঈদুল আযহা ও কুরবানী অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিটি মুসলমানরা এই দিন কুরবানীর জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন।

প্রথমত: আল্লাহ সুন্নাহ দিক নির্দেশনা অনুযায়ী হওয়া । কুরবানীর নাম দেওয়ার নিয়ম

আল্লাহতালা ও রাসুলের নির্দেশিত বিধান অনুযায়ী কুরবানী করতে হবে এই কুরবানী সহ কোন ইবাদতে তার অংশীদারি স্থাপন করা যাবে না তবে তার কুরবানীর সহজ অবতী ইবাদত কবুল করা যায়। কুরবানী করার সময় যাবতীয় ইবাদত কবুল হওয়ার সাক্ষাৎ কামনা করে এবং সৎকর্ম করে এবং কাউকে ইবাদতের শরীক না করা এটাই নিয়ম রয়েছে তবে কুরবানীর সহজ অবতী ইবাদত কবুল হওয়ার ইচ্ছা করা প্রতিটি মানুষের উচিত।

দ্বিতীয়তঃ কুরবানীর জন্য প্রয়োজন ইখলাস তথা এক নিষ্ঠতা। কুরবানীর নাম দেওয়ার নিয়ম

আল্লাহতালা সন্তুষ্টি লাভের জন্যই মূলত কুরবানী করা হয় তবে মন থেকে নিয়ত না করলে কুরবানী করা হবে না আল্লাহর কাছে কখনো কুরবানী গোশত পড়তেন এবং রক্ত তার কাছে পৌঁছায় না যার কারণে আপনাকে এগুলো করে কোন লাভ নেই। সুতরাং কুরবানী করার সময় মহান আল্লাহতালা ও রাসূলের নির্দিষ্ট মোতাবেক কোরবানি সহ সকল কার্যক্রম করার চেষ্টা করুন।

আপনাদের অবগতির জন্য বলতে চাই যে পশু জবাইয়ের সময় কোরবানির তার নাম উল্লেখ করা জরুরি নয় কেননা কাদের পক্ষ থেকে কুরবানী করা হচ্ছে সেটি তো পশুর কেনার সময় পূর্ব নির্ধারিত থাকতে। আমি তো কোন ব্যক্তির নামে কুরবানী দিলে ওয়াজি কুরবানী হয় কিনা এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে এবং তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে নিজের উপর কুরবানী দেওয়া করা ওয়াজিব তাই উচিত নিজের নামে কুরবানী দেওয়া এবং মৃত ব্যক্তির সওয়াব পৌঁছানোর নিয়াত করা।

উপরের দাওয়াত তথ্য গুলোর ভিত্তিতে আপনি হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে কুরবানীর নাম দেওয়ার নিয়ম এবং এর বাইরেও কোন তথ্য আপনার জানা থাকলে নিজের কমেন্ট বক্সে আপনি সেটি বলতে পারেন। আমরা আপনাদের সঠিক তথ্য দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব এবং কুরবানীর সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানার জন্য আমাদের অন্যান্য আর্টিকেলগুলো পড়তে পারেন।